জেনে নিন জুমার রাতের গুরুত্বপূর্ণ আমল

0

ইসলামে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত, অর্থাৎ জুমার রাত, অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় হিসেবে বিবেচিত। এ রাতে ইবাদত, জিকির, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

১. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ

রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার রাত ও জুমার দিনে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

“তোমরা জুমার রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, এ রাতে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
— সুনান দারিমি, হাদিস: ২৭৯১

অন্তত ১০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করা উত্তম।

২. ইস্তিগফার ও তওবা

নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এ রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।

পড়তে পারেন:

“আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।”

এছাড়াও:

“লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।”

৩. কোরআন তিলাওয়াত

জুমার রাতে কোরআন তিলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষভাবে পাঠ করা যেতে পারে—

  • সুরা কাহাফ
  • সুরা ইয়াসিন
  • সুরা ইখলাস
  • সুরা ফালাক
  • সুরা নাস

৪. জিকির-আজকার

বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকা উত্তম। যেমন—

  • সুবহানাল্লাহ — ৩৩ বার
  • আলহামদুলিল্লাহ — ৩৩ বার
  • আল্লাহু আকবার — ৩৪ বার

৫. বিশেষ দোয়া

দোয়ায়ে ইউনুস:

“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।”

হাজতের দোয়া:

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা, ফা-ইন্নাহু লা ইয়ামলিকুহা ইল্লা আনতা।”

৬. নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ

  • ২ রাকাত সালাতুল হাজত আদায় করা।
  • রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।
  • তাহাজ্জুদের পর আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা।

৭. নিজের ও উম্মাহর জন্য দোয়া

এ রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আশা করা হয়। তাই দোয়া করুন—

  • নিজের গুনাহ মাফের জন্য
  • পরিবারের কল্যাণের জন্য
  • রোগমুক্তির জন্য
  • হালাল রিজিকের বরকতের জন্য
  • সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য

জুমার রাত হলো ইবাদত, তওবা, দরুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার এক মহামূল্যবান সময়। এই রাতকে আল্লাহর স্মরণে কাটানো এবং আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। তাই বৃহস্পতিবার রাতকে যথাসম্ভব ইবাদতে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করা উচিত।