চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. মিজানুর রশিদের পরিবারের সবাই কোটিপতি!
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানুনগো মিজানুর রশিদ জন্মসূত্রে বরিশালের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও পার্বত্য বান্দরবানে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পদে ৩০ বছর থাকায় এই জেলায় বাড়ি, গাড়ি ও জমির মালিক বনে যান। চাকরির সুবাদে ভোটার হয়ে যান বান্দরবান সদরে। দুর্নীতির জন্য বান্দরবান সদরসহ বিভিন্ন জেলায় গড়ে তোলেন অসাধু চক্র। দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তির তথ্য হাতে এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে। অনুসন্ধানে শুধু বান্দরবানে শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এছাড়া চট্টগ্রামেও রয়েছে তার বিপুল সম্পত্তি। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। তারা সবাই কোটিপতি!
জানা যায়, মিজানুর রশিদ বান্দরবান সদর আর্মি পাড়ায় ২০ শতক জমির ওপর গড়ে তোলেন ৫ তলা বাড়ি। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা। তার নামে বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নে ২ একর, রোয়াংছড়ি উপজেলার তরছা মৌজার গোদার পাড় এলাকায় ২ একর, চিম্বুক সড়কে ৫ একর, লাঙ্গি পাড়ায় ১৫ একর ও সুয়ালক মৌজায় ৫০ একর জমি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে ৫০টির বেশি অ্যাকাউন্টে নিয়মিত লেনদেন করছেন বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, মিজানুর রশিদ লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো হিসাবে যোগদানের পর একের পর এক অনিয়ম করেই যাচ্ছেন। একদিকে কানুনগো, অপরদিকে সার্ভেয়ার হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জটিল মামলাও কৌশলে একটি পক্ষের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে রিপোর্ট দিয়ে দেন। এছাড়া আরএস খতিয়ান ও আরএস দাগের দলিল দিয়েও নামজারির অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে যাচ্ছেন একতরফাভাবে-এমন অভিযোগও রয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সার্ভেয়ারের পদ খালি থাকায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে একাই সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অফিসে দেরিতে এলেও কানুনগোকে বলার কেউ নেই। নানা অজুহাতে পার পেয়ে যান প্রতিনিয়ত।
মিজানুর রশিদের কাছে দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমার সরকারি চাকরি আর তিন মাস রয়েছে। আমার যা সম্পত্তি রয়েছে তার সবগুলোর আয়কর দাখিল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে রাজি না হওয়া বান্দরবানের এক তরুণ ব্যবসায়ী জানান, মিজান সাহেব তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসাবে চাকরিতে যোগদানের পর এত সম্পত্তির মালিক কীভাবে হলেন বুঝতে পারছি না!
চস/পিএ
