অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (পর্ব-৩) : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগ কাপাসগোলা জোন যেন দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়া! হামিদা ও কান্তা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।
মোহরা ৫ নং ওর্য়াড স্বাস্থ্য সহকারী পারভিন আক্তার অভিযোগ করেছেন, ১৬নং চক বাজার ওর্য়াড এর স্বাস্থ্য সহকারী হামিদা বেগম ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ছাফা মোতালেব সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী কান্তা দাশের বিরুদ্ধে।
ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ১০টাকা ফি সেবা গ্রহণকারীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। এই টাকা নিয়ে সিটির সাস্থ্য বিভাগে চলছে টাকার খেলা!
অভিযোগ রয়েছে যে, ১০ টাকার পরিবর্তে কোন কোন কেন্দ্রে ১০০-২০০টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
সূএে জানা যায়, চকবাজার ১৬ নং ওয়ার্ডে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী হামিদা কাপাসগোলা জোনের কথিত লাভজনক টেকনিশিয়ান পদটি দখলের জন্য সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী আরাফাত, বিকাশ, কান্তা, লুৎফা শেলী, ওয়াহেদ, কোহিনুর ও অসীমসহ বেশ ক’জনকে নিয়ে একটি গোপন সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তাদের ওপর জোনের উপরের কর্মকর্তাদরে আর্শীবাদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৬মে ২০২৬ হামিদা বেগম ও কান্তা দাশ যৌথভাবে মোহরা ৫নং ওর্য়াডের স্বাস্হ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত পারভিন আক্তার ও ফাতেমা বেগম থেকে চাঁদা/টাকার ভাগ আদায় করার জন্য পাগলা খোকন নামে এক ব্যক্তিকে পাঠান। মোহরার সকলের নিকট রেজাউল করিম খোকন প্রকাশ পাগলা খোকন নামে পরিচিত।
’তারা আমাদের অফিসের আয়া’
দু’জন স্বাস্থ্য সহকারীর অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বাস্হ্য সহকারী হামিদা বেগমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন -যে দুজনের কথা বল্লেন তারা স্বাস্থ্যসহকারী না তারা আমাদের অফিসের আয়া।
ঝাড়ুদারদের কথায় কিছু যায় আসেনা । আর আপনারা সাংবাদিকরা এই সব ছোট ছোট পএিকায় সংবাদ প্রকাশ করলেও আমাদের কিছুই হবেনা।
বড় বড় পত্রিকা যেমন প্রথমআলো, কালের কন্ঠ, কাল বেলা এসবে প্রকাশ হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব এ সব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখালে ভেবে দেখব বলে কল কেটে দেন।
হামিদা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, উপরের স্যারের অনুমতিতে স্বাস্থ্য সহকারীর পাশাপাশি টেকনিশিয়ান এর দায়িত্ব পালন করছি।
আরেক অভিযুক্ত রেজাউল করিম প্রকাশ পাগলা খোকনকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে- তিনি বলেন, চকবাজার ১৬নং ওয়ার্ড থেকে হামিদা আপা আমাকে ৫নং ওয়ার্ড অফিসে পাঠান, পারভিন আক্তার ও ফাতেমা বেগমের কাজকর্ম দেখতে।
খোকনকে স্বাস্থ্য সহকারী কান্তা দাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে অভিযোগকারী দুই মহিলা স্বাস্থ্য সহকারির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্বক মন্তব্য করে সাবেক কাউন্সিল আজমের ওপর দোষ চাপান।
উল্লেখ্য – হামিদা এবং আরাফাত প্রভাবশালী কয়েকজনকে দিয়ে এ বিষয়ে নিউজ না করার জন্য বারং বার সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
আগের নিউজ পড়ুন :
(১) ২ নারী সহকর্মীকে হেনস্থাকারী কে এই আরাফাত?
(২) চসিক-মহিলা স্বাস্থ্য সহকারীদের শারীরিক হেনস্থা
ধারাবাহিক প্রতিবেদন চলবে।
চট্টগ্রাম সমাচার/ইই,আবদুল্লাহ
