মোবাইল, রেস্টুরেন্ট ও ওষুধের ভ্যাট কমছে

ঢাকা: বিক্ষোভের মুখে মোবাইলে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, রেস্টুরেন্ট এবং ওষুধের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত এ বিষয়ে নতুন আদেশ জারি করতে যাচ্ছে। বুধবার(১৫ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, দুই-একদিনের মধ্যেই এ আদেশ কার্যকর হবে।

আইএমএফের শর্ত এবং নতুন ভ্যাট বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তে কর-জিডিপি অনুপাত দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর চাপ আসে, যার অর্থ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে এ পরিমাণ যুক্ত করতে হবে। আইএমএফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বকেয়া আদায় বা মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা যাবে না; বরং বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে হবে। ফলে এনবিআর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে।

এমন সিদ্ধান্তে মোবাইল, ইন্টারনেট, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতসহ নানা ক্ষেত্রে ভ্যাট বাড়ানো হয়। মোবাইল ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ২৩ শতাংশ করা হয়। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ২.৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়। হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে এক লাফে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এসব সিদ্ধান্তে জনগণের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

রেস্তোরাঁ মালিকদের প্রতিক্রিয়া

হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “ভ্যাট বাড়ানোর ফলে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে। মালিক ও ভোক্তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। আমরা সরকারকে সমস্যার কথা জানিয়েছি এবং আশা করছি ভ্যাট কমানো হবে। না হলে আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই।”

পোশাক খাতের উদ্বেগ

পোশাক খাতের ভ্যাট বৃদ্ধিকেও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব। তিনি বলেন, “এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে শিল্প ও ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি ভ্যাট বৃদ্ধি প্রয়োজন হয়, তাহলে ধাপে ধাপে বাড়ানো উচিত।”

যেসব পণ্যে ভ্যাট অপরিবর্তিত

পটেটো ফ্ল্যাকস, কর্ন স্টার্চ, বিস্কুট, কেক, আচার, টমেটো সস ও কেচাপ, ফলের পেস্ট, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন, এবং বিভিন্ন রড তৈরির কাঁচামালে ভ্যাট অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া বিমান টিকিটের আবগারি শুল্কও অপরিবর্তিত থাকবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের শর্তে ভ্যাট বাড়ানোর পর সরকারের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মোবাইল, ওষুধ এবং রেস্তোরাঁ খাতের ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।