চসিক-মহিলা স্বাস্থ্য সহকারীদের শারীরিক হেনস্থা

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (পর্ব-২) ; সাংবাদিককে হুমকি

বাল-ছালের চাকুরী কর এজন্যই তো ২৫/২৬ বছর চাকুরী করেও চাকুরী স্থায়ী করতে পারো নাই। আমার চাকুরী স্থায়ী।  কেউ কিছু করতে পারবে না। টাকা এদিকে দাও- এ কথা বলেই মহিলা স্বাস্থ্য সহকর্মীর শরীরের রানের চিপায় থাকা পকেটে হাত ঢুকিয়ে জোরপূর্বক টাকা কেড়ে নেয়-চসিক স্বাস্থ্য বিভাগ কাপাসগোলা জোন-এ সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুরুষ স্বাস্থ্য সহকারী আমরুল আমিন আরাফাত।

শুধু তাই নয় উপস্থিত কর্মরত অপর মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী এতে আপত্তি বা বাধা দিতে গেলে তাকেও ঔদ্ধ্যত ভাবে হাতের বাহু বা কুনুই দিয়ে স্ব-জোরে বুকে আঘাত করে সরিয়ে দেন উক্ত আরাফাত। তার গ্রামের বাড়ী কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আগত অভিভাবকসহ ক্লাব কর্তৃপক্ষের সকলের সামনে নিজের পেটের সন্তান সমতূল্য ছেলে নতুন চাকুরীতে যোগদান করেই এহেন অনাকাক্ষিত অনৈতিক কর্মকান্ডে হত-বিহ্বল হয়ে পড়েন বয়সে বড় দু মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ফাতেমা বেগম ও পারভীন আকতার।

দীর্ঘদিন চাকুরীরত অবস্থায় কখনও এই ধরনের শারিরীক হেনস্থা নির্যাতনের শিকার হননি জানিয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া স্বাস্থ্য সহকারী আরাফাত নামের এই ছেলের অসভ্য আচরণে চরম অপমানবোধ করেন ফাতেমা বেগম ও পারভীন আকতার।

তৎক্ষনাত ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকগণ এগিয়ে এসে ঘটনার প্রতিবাদ করতে থাকেন এবং বকা-ঝকা সহকারে উক্ত আরাফাতকে উত্তম-মধ্যম দিতে তেড়ে আসেন উপস্থিত সকলে। এক পর্যায়ে তাকে (আরাফাতকে) ক্লাবের এককোণে আটকে রাখেন ক্লাব কর্মকর্তারা। সাথে সাথে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে চসিক কাপাসগোলা জোনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন বলে জানান পেশাগত দায়িত্বরত দু মহিলা স্বাস্থ্য সহকারী ফাতেমা বেগম ও পারভীন আকতার।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার আনুমাণিক বেলা ১২ টা থেকে ২ ঘটিকার সময়।  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাপাশগোলা জোনের ৫নং মোহরা ওয়ার্ডস্থ সাপ্তাহিক ক্যাম্প/ঠিকাদার কর্মসূচি চলাকালীন উসমানিয়া পুল সংলগ্ন মুসলিম তরুণসংঘ ক্লাবে। চসিক স্বাস্থ্য বিভাগ কাপাশগোলা জোনে স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে পারভীন আকতার ও ফাতেমা বেগম পেশাদারিত্বের সহিত দীর্ঘদিন যাবত ৫নং মোহরা ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

দূর্ভাগ্যজনক ভাবে বিগত ২৫/২৬ বছর চাকুরী করে আসলেও এই দুইভদ্র মহিলার চাকুরী এখনো স্থায়ী হয়নি।

প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কাপাসগোলা জোনের কিছু কু-চক্রী ধান্ধাবাজদের ইন্ধনে সদ্য নিয়োগকৃত পুরুষ স্বাস্থ্য সহকারী আমরুল আমিন আরাফাত নিজ চাকুরী স্থায়ী হওয়ার দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের সহিত এই অনৈতিক অনাকাক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছেন।

 

চান্দগাঁও থানাধীন ৫নং মোহারা ওয়ার্ডস্থ ওসমানিয়া পুলের গোড়ার “মুসলিম তরুণসংঘ” একটি সামাজিক সংগঠন। এই ক্লাবে প্রায় ১ হাজার নথিভূক্ত সদস্য আছেন। এইখানে সভাপতি, সেক্রেটারিসহ সকলেই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তারা বেশ দক্ষতার সহিত উক্ত সংগঠনটি পরিচালনা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান। ঐ দিনের ঘটনা সম্পর্কে ক্লাবের ৩/৪ জন কর্মকর্তা পৃথক পৃথক ভাবে এই প্রতিবেদককে জানান, ফাতেমা বেগম ও পারভীন আকতার বেশ সুনামের সহিত দীর্ঘদিন অত্র ক্লাবে ইপিআই-টিকাদান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

 

মূলতঃ তাদের আচরণে সন্তষ্ট হয়ে মুসলিম তরুণসংঘ ক্লাব কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ইপিআই -টিকাদান কর্মসূচি পালনের জায়গা করে দেন অত্র ক্লাবে। তারা জানান, কথিত আরাফাত চসিক স্বাস্থ্য বিভাগে নতুন নিয়োগ পেয়ে এইখানে এসে চাকুরীর প্রথম দিনে পুরাতন স্বাস্থ্য সহকারী এ দু মহিলার সাথে চরম ঔদ্ধতপূর্ণ শ্লীলতাহানির মতো যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তাতে উপস্থিত রোগী, অভিভাবক, মুসলিম তরুণসংঘের কর্মকর্তা ও সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

অভিযুক্ত পুরুষ স্বাস্থ্য সহকারী আরাফাতের বিরুদ্ধে একইদিন অকারণে নারীদের গায়ে হাত দেয়া ও লাইন ঠিক করার বাহানায় নারীদের হাত ধরে টানাটানি করার ঘটনাও ঘটে। ফলে ক্ষুব্ধ উপস্থিত লোকজন তাকে  ঐদিন বিকালে ৫টা পর্যন্ত ক্লাবে আটকে রাখেন। ক্লাব সভাপতি/সেক্রেটারি না থাকাতে ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছিল তাই মহিলা স্বাস্থ্য সহকারী ফাতেমা বেগম ও পারভীন আকতারের বিশেষ অনুরোধে ক্লাব কর্মকর্তারা শর্তসাপেক্ষে অভিযুক্ত আমরুল আমিন আরাফাতকে ছেড়ে দেন।

 

নির্যাতিত দু মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ফাতেমা বেগম ও পারভীন আকতারকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার পরেও আরাফাতকে ছাড়িয়ে আনার অনুরোধ করা প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে, তারা বলেনমূলতঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়ের ইমেজ ও কর্পোরেশনের মানসম্মানের কথা চিন্তা করেই পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী আরাফাতের জন্য ক্লাব  কর্তৃ ক্ষকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি, নচেৎ ঐ ছেলে (আরাফাত) আমাদেরকে যেইভাবে শারীরিক হেনস্থা নির্যাতন করেছে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করা উচিত বলে আমরা মনে করি এবং এখানকার লোকজন সেই পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে আমরা মাননীয় মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অভিযুক্ত আরাফাতকে ফোনে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে দু মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে-প্রথমে সেই এই প্রতিবেদকের কথাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং সরাসরি দেখা বা বসে স্বাক্ষাত করার প্রস্তাব দেন । এতে প্রতিবেদক রাজী না হলে এই প্রতিবেদককে হুমকি ধমকি দিয়ে বলেন- যারা এইসব নিউজ করেন তারা ভূয়া সাংবাদিক।

 

এ সংক্রান্তে চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও কাপাসগোলা জোনের প্রধান তপন চক্রবর্তীর সাথে ফোন কলে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নাই।

 আসছে পরবর্তী ধারাবাহিক প্রতিবেদন।

পূর্বের নিউজের লিংক

চসমাচার/রিপন